Browsed by
বিভাগ: কৈশোর

ইচ্ছেগুলো মিথ্যে ছিলো

ইচ্ছেগুলো মিথ্যে ছিলো

জীবনটা গন্ধহীন শুকনো ঝরাপাতা। প্রয়োজন ফুরালে তুমি মূল্যহীন। কিংবা এমনো হতে পারে প্রয়োজনেই তুমি মূল্যহীন! প্রয়োজন তোমাকে মূল্যহীন করেছে। বসে ভাবি নির্জনে, অনেক হয়েছে, এবার সময় হয়েছে হারিয়ে যাবার। আবার সেই ঝাপসা ঝিরঝিরে একরঙি সংঘর্ষ, চোখের পর নেমে আসে রাঙা আঁধার হয়ে। গুটগুট অন্ধকার, চারপাশে। কিছু দেখি না মনে… চোখে… কেবল রিনিঝিনি সুর লাহরী। ভেসে যাচ্ছে নোনা জল হয়ে। আমি মৌন হয়ে শুনতে থাকি, নির্লজ্জ্ব প্রতীক্ষায়… শেষ বারের মতো তাকে দেখবো বলে।

অনলিনেস

অনলিনেস

রাত ১টা। এই সময়টা আমার নিজের। এ সময়ে এসে আমি নিজের জন্য ভাবি। তা আর ভাবা? খেটে খুটে নিজের জন্য কিছু লিখে যাওয়া। এটুকুই। ভবিষ্যতের যে ছক আঁকি, তা আমার নিজের জন্য নয়। অন্য কারো জন্য। আচ্ছা তাদের জন্য আমি কি ভাবি? কি করি? তাইতো! ঠুনকো আমি। একটা থার্ড ক্লাশ ঠুনকো। আমার চেয়ে পকেটমারও অনেক ভালো। তাদের পেশাটা পরিবারের জন্য কিছু রোজগার। আর আমি? না করি নিজের জন্য কিছু, না করি তাদের জন্য কিছু।

স্বপ্নবিলাসী? তা বলা যায় বৈকি। স্বপ্ন বিলাসী আমি। কেবল স্বপ্নগুলো খুব সুন্দর করে সাজাতে জানি। ওগুলোর পালকে পালকে রঙিন আলপনা আঁকতে জানি। প্রোটিনযুক্ত খাবার খাইয়ে দোল দিয়ে দিয়ে ওদের ঘুম পাড়াতে জানি! স্বপ্নের ফেরীওয়ালা বলা যায় আমাকে। যে কেবল ফ্রিতে স্বপ্ন ফেরী করে মধ্যরাতে বাড়ী ফিরে। অথচ তার নিজের স্বপ্নগুলোর অবস্থা যাচ্ছেতাই। শুকিয়ে এক একটা ট্যাংরা বাবু হয়ে তারা গৃহবন্দী!

একজনতো প্রায়ই বলে, আমি নাকি নিজের জন্যই শুধু ভাবি! তা একদিক থেকে হয়তো ঠিক। ওর দৃষ্টিতে এটুকু চোখে পড়ার মতনই। শুধু ওর কেনো, সবাইতো তাই ভাবে। অথচ আমি মোটেই সেরকম নই। আমি কেবল ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়বস্তু এড়িয়ে চলি। নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে পছন্দ করি। ঠেকায় না পড়লে পাল্টা আক্রমন করিনা। আমার অবস্থা নিরিহ বিড়াল ছানার মতো। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই তখন সামনের কাউকে ছাড়িনা।

মাঝে মধ্যে স্বার্থপরও বলা হয় আমাকে! স্বার্থপর! হয়তো তাই। নিজেকে যখন স্বার্থপর মনে হয়, ঠিক তখন আরও একজনের কথা মনে পড়ে। তার অভিযোগ আমি নাকি নিজের জন্য কিছুই ভাবিনা! আমার নাকি নিজের জন্য কিছুটা হলেও ভাবা উচিৎ। আহা আমার দো-মনা মন। কখনো কখনো নিজেকে উজাড় করে দেয়ার মাঝে তৃপ্তি পাই। গুনগুনিয়ে বেসুরে গান গাই। সবাইকে নিয়ে মেতে উঠি উল্লাসে। আবার কখনো কখনো নিজেকে ঠুনকো ভেবে বেদনায় নীল হই। ছাদের রেলিং এ পিঠ ঠেকিয়ে শূণ্য আকাশে তাকিয়ে রই। মেঘ দেখি। মেঘের ওপাশে চাঁদ দেখি। তারও ওপাশে তারা দেখি। দেখতে দেখতে সব কিছু ঝাপসা দেখি। ঝাপসা দেখি। সবকিছুই। নিঃশব্দে তারা নেমে আসে। নিঃশব্দে তারা গড়িয়ে পড়ে। নিঃশব্দে তারা দেশান্তরি হয়…।

প্রেম না মোহ?

প্রেম না মোহ?

অফিস থেকে ট্রেনিং শেষে যখন বাড়ীর পথে হাঁটা ধরি তখন ক্লান্তি আর ক্লান্তি। খুব কষ্ট হয় পথ চলতে। ফার্মগেট এলাকায় হাজার মানুষের ভীড়। কত জনকে চিনি, কত জনকে চিনি না। ক’জনকে একবার দেখে দ্বিতীয়বার কখনো দেখিনি, ক’জনকে দুইবার দেখেছি, ক’জনকে কয়েকবার। কিন্তু একজনকে আমি প্রায়ই দেখি। সিমসাম একজন। দেখলেই বুকের ভিতরটা কেমন কেমন করে উঠে!

২ সপ্তাহ হয়ে গেল। হাজার মানুষের ভীড়ে কখনো তাকে কিছু বলার মত সাহস পাইনি। সে দাঁড়িয়ে থাকে, আমিও। বাস আসে আমি উঠে যাই। তাকে কখনো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি, কখনো দেখিনা। খুব জানতে ইচ্ছে করে সে কোথায় থাকে? নাম কি? কোথায় পড়ে? কি পড়ে?

মাঝে একবার ভেবেছিলাম আজ বলতেই হবে কিছু। অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলাম, তাকে পেলাম না। কোথাও পেলাম না। তারপরদিনও খুব আয়োজন করে গেলাম। সেদিনও সে এলোনা। এরপরদিন সে আসলো কিন্তু তাকে বলার মত আমার শক্তি  ছিলনা কিংবা সাহস ছিলনা ছিলনা। গতকাল সেই উৎসাহটা আবার জেগে উঠলো। ভাবলাম আজকে বলবোই বলবো…. কিন্তু বৃষ্টি এসে ঢাকার সব বাড়ী-ঘর ধুয়ে মুছে নিয়ে গেল। সাথে তাকেও। জনবহুল ফার্মগেট একদম ফাঁকা। মোবাইলটা ব্যাগে ঢুকিয়ে আমি ঘন্টা খানেক ভিজলাম। অপেক্ষা করলাম। তাকে পেলাম না। জবজবে শরীর নিয়ে ফিরে এলাম বাসায়।

আজ ভাবছি তার কথা। তার সাথে কি আজ দেখা হবে?
তাকে বলার মত সাহস থাকবে কি তখন?
আচ্ছা কি বলবো তাকে?
জানিনা…।