অনলিনেস

অনলিনেস

রাত ১টা। এই সময়টা আমার নিজের। এ সময়ে এসে আমি নিজের জন্য ভাবি। তা আর ভাবা? খেটে খুটে নিজের জন্য কিছু লিখে যাওয়া। এটুকুই। ভবিষ্যতের যে ছক আঁকি, তা আমার নিজের জন্য নয়। অন্য কারো জন্য। আচ্ছা তাদের জন্য আমি কি ভাবি? কি করি? তাইতো! ঠুনকো আমি। একটা থার্ড ক্লাশ ঠুনকো। আমার চেয়ে পকেটমারও অনেক ভালো। তাদের পেশাটা পরিবারের জন্য কিছু রোজগার। আর আমি? না করি নিজের জন্য কিছু, না করি তাদের জন্য কিছু।

স্বপ্নবিলাসী? তা বলা যায় বৈকি। স্বপ্ন বিলাসী আমি। কেবল স্বপ্নগুলো খুব সুন্দর করে সাজাতে জানি। ওগুলোর পালকে পালকে রঙিন আলপনা আঁকতে জানি। প্রোটিনযুক্ত খাবার খাইয়ে দোল দিয়ে দিয়ে ওদের ঘুম পাড়াতে জানি! স্বপ্নের ফেরীওয়ালা বলা যায় আমাকে। যে কেবল ফ্রিতে স্বপ্ন ফেরী করে মধ্যরাতে বাড়ী ফিরে। অথচ তার নিজের স্বপ্নগুলোর অবস্থা যাচ্ছেতাই। শুকিয়ে এক একটা ট্যাংরা বাবু হয়ে তারা গৃহবন্দী!

একজনতো প্রায়ই বলে, আমি নাকি নিজের জন্যই শুধু ভাবি! তা একদিক থেকে হয়তো ঠিক। ওর দৃষ্টিতে এটুকু চোখে পড়ার মতনই। শুধু ওর কেনো, সবাইতো তাই ভাবে। অথচ আমি মোটেই সেরকম নই। আমি কেবল ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়বস্তু এড়িয়ে চলি। নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে পছন্দ করি। ঠেকায় না পড়লে পাল্টা আক্রমন করিনা। আমার অবস্থা নিরিহ বিড়াল ছানার মতো। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই তখন সামনের কাউকে ছাড়িনা।

মাঝে মধ্যে স্বার্থপরও বলা হয় আমাকে! স্বার্থপর! হয়তো তাই। নিজেকে যখন স্বার্থপর মনে হয়, ঠিক তখন আরও একজনের কথা মনে পড়ে। তার অভিযোগ আমি নাকি নিজের জন্য কিছুই ভাবিনা! আমার নাকি নিজের জন্য কিছুটা হলেও ভাবা উচিৎ। আহা আমার দো-মনা মন। কখনো কখনো নিজেকে উজাড় করে দেয়ার মাঝে তৃপ্তি পাই। গুনগুনিয়ে বেসুরে গান গাই। সবাইকে নিয়ে মেতে উঠি উল্লাসে। আবার কখনো কখনো নিজেকে ঠুনকো ভেবে বেদনায় নীল হই। ছাদের রেলিং এ পিঠ ঠেকিয়ে শূণ্য আকাশে তাকিয়ে রই। মেঘ দেখি। মেঘের ওপাশে চাঁদ দেখি। তারও ওপাশে তারা দেখি। দেখতে দেখতে সব কিছু ঝাপসা দেখি। ঝাপসা দেখি। সবকিছুই। নিঃশব্দে তারা নেমে আসে। নিঃশব্দে তারা গড়িয়ে পড়ে। নিঃশব্দে তারা দেশান্তরি হয়…।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।