এত খুড়োখুড়ি করি সারাক্ষন তবু খুব বেশি দূর যেতে পারিনা। হোঁচট খেয়ে দমে যাই। ইচ্ছে করে না তোমায় জানতে। চুলের গন্ধ নিতে। তোমার মুখচ্ছবি অনুভবে আটকে রাখতে। কত গভীরতা তোমার? আমার মাইলের পর মাইল শূণ্যতা পারেনা আমাকে তোমার চেতনার আরো কাছাকাছি নিয়ে যেতে।
তুমি বলো- তোমার কোনটা প্রয়োজন, অনুভব না অনুভূতি। জৈবিক চাহিদা না আমার ভেতরের চেতনা?
আমার ভাবনারা অবাক বিস্ময়ে জমে যায়। আমি বাকশক্তি হারিয়ে তোমার দিকে চেয়ে রই। জবাব দিতে পারিনা কোন কিছুরই। আমিতো জানি, উত্তর আমি যা-ই দেই না কেন, জবাব তোমার নিজের মতো করে তৈরি করা। চোখ সরু আর নাকটা শিকারি বাঘের মত করে বলবে- তোমরা ছেলেরা কেবল মেয়েদের ঐ ব্যাপারটাই মুখ্য ভাবো। সব ছেলে এক।
প্রতিটি সকাল নতুন করে শুরু করি। যেন একটা বুড়ো নবজাতক স্মৃতির সমস্ত স্টোরেজ খালি করে জেগে উঠলো। এক ঘেয়ে ব্যস্ত মাইল পাড়ি দিয়ে আমার ক্লান্ত শরীর যখন দারুন অবসাদি হয়ে চোখের অন্ধকোনে তোমার অস্তিত্ব হরন করতে ব্যস্ত হয়, ঠিক তখন তুমি তোমার কথার আঁচল বিছিয়ে আমায় আরো গভীর আবেশে ডুবিয়ে দাও। আমি টুপ করে ডুবে যাই। কেন জানিনা আমি তখন দূরের সেই নদিকে খুব কাছে পেয়ে যাই। যেন, কৈশোরে পা দেয়া কোন তরুন বসে আছে এক উচ্ছ্বল নদির ভরাট কিনারায়। এলোমেলো বেহিসেবী ঢেউ আর কুলকুল ধ্বনি যেন তাকে নিয়ে যায় নিজের স্বাধিন ভাবনা থেকে লক্ষ মাইল দূরে। যখন মোহগ্রস্থ হয়ে পড়ি এসব আমুদে ভাব আবেশে, ঠিক তখুনি তুমি আমায় ফিরিয়ে দিয়ে যাও অসহনীয় নরক যন্ত্রণা। চেতনার সমস্ত রং নিমিষেই হারিয়ে যায়। আমি তোমার এ অসাধারণ উপহারে বয়সী মানুষের মতো নির্জিব হয়ে যাই। চুপচাপ খুব যত্ন করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি। বুঝতে দিতে চাইনা কাউকেই, আমি হাল ছেড়ে দিতে জানি।
তুমি বেশ বুঝতে পারো, আমি কতদূর গেলে দুর্বল হয়ে পড়ি। এর আগে আমি নিজেও জানতে পারিনি ঠিক কতদূর এগিয়ে গেলে আমার পক্ষে দূর্বল হওয়া সম্ভব।
মাকড়শার জীবন-বৈচিত্র অদ্ভুত লোমহষ্যক। সহবাসের পর মিষ্টার মাকড়শাকে মিসেস মাকড়শা খেয়ে ফেলে। বাচ্চা প্রসবের পর মিসেস মাকড়শার মৃত্যু হয়। তারপর তাকে গোগ্রাসে হজম করে সন্তানেরা। আমার ভাবনাগুলোর অবস্থা ঠিক মাকড়শার মত। তারা সব জেনেও সহবাসে প্রলুব্ধ হয়। একদিন বড় বড় ভাবনাগুলো বিলীন হয়ে যায়। জীবিত ভাবনাকণাগুলো আমার চেতনার চারপাশ পাক খেতে থাকে। তারা স্থির না। তাদের বোঝা যায় না। তারা যেন ঠিক তোমারই অনুরূপ। নিশ্বাসের কাছাকাছি এসে কোথায় যেন তলিয়ে যায়। আমার ১০০ মাইলের স্বপ্ন চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায়। পাড়ি দিতে পারিনা দু কদম সমস্ত ইচ্ছেকে এক করে।
আমাদের কোথাও থেমে যাওয়া উচিত।
এখুনি।
একদিন, মৌসুমি ভৌমিক শুনে হয়তো কাঁদবে তুমি। একলা পাখির মত দারুন অভিমানী হয়ে ডায়াল করবে স্মৃতির কোষে জমে থাকা নাম্বারগুলো। একবার, দুইবার, বার বার। উত্তর দিবেনা কেউই। পৌছানো যাবে না যেখানে তুমি পৌছুতে চাও।
শত ব্যস্ততার মাঝে মনে পড়ে যাবে- কিছু স্মৃতি কথা, ঝাউবনের জমানো কুয়াশা, শাপলা পুকুরের মৃদু রৌদ, তুরাগের বুকে তোমার হাতের ছোঁয়া, ঠোঁটের কোনে জমানো অদ্ভুত যন্ত্রণা... । তবু, বুঝতে দিতে চাইনা তোমায়- এমন গভীর দীর্ঘ নিশ্বাস, আমিও ছাড়তে জানি। সময় আমায় এত বড় এক প্রতারক বানিয়ে দিয়েছে যে আমি সব বুঝে, সব অনুভব করেও এক পা এগুতে পারিনা। একশ’ মাইল... শেষ হতে এখনো যে ঢেড় বাকি।



